মোঃ রাইসুল ইসলাম রাজু, দর্শনা (চুয়াডাঙ্গা):
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় তালাকসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য যাওয়ার সময় এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্মীয় শিক্ষক ও স্থানীয় কাজীর বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে অভিযুক্তকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত খন্দকার মনিরুজ্জামান হাসাদাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক এবং স্থানীয় কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, তালাকসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তরুণীর বাবা তাকে নিয়ে অভিযুক্ত কাজীর কাছে যান। এ সময় কাজী তরুণীকে একা উপরের ঘরে যেতে বলেন। সেখানে তিনি তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন তরুণীর ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তকে মারধর করেন।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্লীলতাহানি কিংবা মারধরের ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত খন্দকার মনিরুজ্জামান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”
এ বিষয়ে হাসাদাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ঘটনাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বা বিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে যেহেতু এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।